খাদিমপাড়ায় রাসেল’র নেতৃত্বে জমজমাট জুয়ার আসর : ধ্বংসের দিকে যুবকরা!

প্রকাশিত: ১:০৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০২১

খাদিমপাড়ায় রাসেল’র নেতৃত্বে জমজমাট জুয়ার আসর : ধ্বংসের দিকে যুবকরা!

ক্রাইম প্রতিবেদক : সিলেট সদর উপজেলার ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের কয়েকটি স্থানে প্রতিরাতে চলছে ঝান্ডু-মন্ডু নামের জমজমাট জুয়ার আসর। এতে দিন দিন ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ।

জানা গেছে- একই ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের জালালনগর এলাকার কুখ্যাত জুয়াড়ি দেলোয়ার মিয়ার পুত্র জুয়াড়ি রাসেলের নেতৃত্বে একটি চক্র প্রতি রাতে একই ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে বসাচ্ছে ঝান্ডু-মন্ডু নামের জমজমাট জুয়ার আসর। আর লুটে নিচ্ছে অসহায় দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকজনের টাকা-কড়ি। অনেকে আবার জুয়ার টাকা সংগ্রহের জন্য বিক্রি করছেন গোয়ালের গরু ও স্ত্রীর স্বর্ণের গয়না। আবার কিছু উঠতি বয়সের যুবকরা জুয়ার টাকা সংগ্রহের জন্য চোরি-ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা রকমের অপকর্ম করছে।

জুয়াড়ি রাসেলের জুয়ার স্থান গুলো হচ্ছে- জালালনগর এলাকার হাউজিং, হাতুড়া এলাকার হাতুড়া খালের পার্শ্বে ও হাতুড়া টু বাঘা সড়কের লাম্বা ব্রিজের নীচেসহ আশপাশের বিভিন্ন ইকরের মধ্যে।

প্রতিরাতে জুয়াড়ি রাসেলের নেতৃত্বে রাত ১২টার পর হইতে ফজরের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত চলে জমজমাট জুয়ার আসর। মাঝেমধ্যে একই থানার অন্যান্য জুয়ার আসরে র‍্যাব-পুলিশের অভিযান হলেও জুয়াড়ি রাসেলের বিরুদ্ধে কোন এক্যাশন না নেয়াতে বেপরোয়া হারে বেড়েছে এই চক্রের জমজমাট জুয়ার ব্যবসা।

জুয়াড়ি রাসেলের নেতৃত্বে বর্ণিত স্থানগুলোতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ জুয়াড়িদের উপদ্রব লক্ষ্য করা গেছে। জুয়াড়ি রাসেলের জুয়ার আসরে সিলেটসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার নানা পেশার লোকজন অংশ নেয়। প্রথম প্রথম কিছুটা রাখডাক তাকলেও এখন বিষয়টি এলাকায় “ওপেন সিক্রেট” হয়ে দাড়িয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে- কয়েক দিন আগে জুয়াড়ি রাসেলের জালালনগরের হাউজিং এর জুয়ার আসরে খেলতে আসা কয়েকজন যুবক জুয়াড়ি রাসেলের সাথে জুয়ার টাকা নিয়ে মারপিট করতে থাকলে এলাকার আশপাশের লোকজন এসে মারপিট বন্ধ করেন এবং জুয়া বন্ধের জন্য রাসেলের বিরুদ্ধে এলাকাভিত্তিক জোড়ালো ব্যবস্থা নেন। কিন্তু তাতেও থেমে নেই জুয়াড়ি রাসেল চক্র। তারা স্থান পরিবর্তন করে হাতুড়া এলাকার হাতুড়া খালের পার্শ্বে বেশ কয়েকদিন চালায় তাদের জমজমাট জুয়ার আসর। সেখানেও কিছু দিন যেতে না যেতে ঠিক আগের মতো জুয়ার টাকা নিয়ে মারপিট শুরু হয় টিলাগড় ও সুরমাগেইট থেকে খেলতে আসা কয়েকজন যুবকের সাথে জুয়াড়ি রাসেলের। আশপাশের লোকজন তাদের চিকিৎসার চেচামেচি শুনে এগিয়ে গিয়ে জুয়াড়ি রাসেলসহ ওই যুবকদের আটক করে এখানে আর এরকম খেলা না বসানোর শর্তে প্রথম বারের মত তাদের ছেড়ে দেন। কিন্তু চোর শুনে না ধর্মের বুলি কে শুনে কার কথা। কিছুতেই থামছে না জুয়াড়ি রাসেল চক্রের জুয়ার আসর। এখন জুয়াড়ি রাসেল চক্র পূনরায় প্রতিরাতে হাতুড়া টু বাঘা সড়কের লাম্বা ব্রিজের নীচসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে বসাচ্ছে জুয়ার আসর। জুয়াড়ি রাসেলের এই জুয়ার আসরে যেকোনো মূহুর্তে জুয়ার টাকা নিয়ে খুনাখুনির মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

অনুসন্ধানে উঠে আসে- জুয়াড়ি রাসেলের বাবা দেলোয়ার মিয়া একজন কুখ্যাত জুয়াড়ি। তার জুয়াড়ি হিসেবে ব্যাপক নাম ডাকও রয়েছে এলাকায়। জুয়াড়ি দেলোয়ার মিয়ার নেতৃত্বেও আগে এলাকায় বসানো হতো জুয়ার আসর। জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ জুয়াড়ি দেলোয়ার মিয়া কয়েকবার থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। আর এখন বাবার ঐতিহ্য ধরে রাখছে জুয়াড়ি রাসেল। তার পেশা মূলত লেগুনা চালক হলেও সে মূলত একজন জুয়া খেলার গডফাদার। ইতিমধ্যেই জুয়াড়ি রাসেল নারী কেলেংকারীসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনায় কয়েকবার জেল খেটে জামিনে বের হয়ে ফের চালিয়ে যাচ্ছে জুয়ার মতো অবৈধ কর্মকান্ড।

এব্যাপারে জুয়াড়ি রাসেলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সে জুয়ার আসর বসানোর সত্যতা নিশ্চিত করে বলে- আমি জুয়ার আসর বসাই আমাকে কেউ হাতেনাতে না ধরে তা বলতে পারবে না। যদি তোমাকে কেউ হাতেনাতে ধরে? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে সে বলে- তাহলে আমি খেলা বন্ধ করে দিব। তাতে সমস্যা কি? আমার যখন মন চাইবে খেলতে তখন আমি গাছবাড়ি বা গোলাপগঞ্জে গিয়ে জুয়া খেলবো। তাতে তো কারো কিছু যায় আসেনা বলে প্রতিবেদককে হুংকার দেয় সে। তার সম্পূর্ণ ডকুমেন্টস প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত।

এব্যাপারে শাহপরান (রহ.) মাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সারোয়ার হোসেন ভূইয়া বলেন- বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি গুরুত্বসহকারে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ