গোয়াইনঘাটে আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি, হিন্দু পরিবারের জমি দখল!

প্রকাশিত: ৯:৩৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২৪

গোয়াইনঘাটে আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি, হিন্দু পরিবারের জমি দখল!

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধিঃ সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১০ নং পশ্চিম আলীর গাও ইউনিয়ন এর কোওর বাজার পাঁচপাড়া গ্রামে আদালতে মামলাকৃত জমির উপর বিজ্ঞ আদালতের ১৪৪ ধারা জারিকৃত (এস এ ১৯২নং, খতিয়ান ১৪২৪) জমিতে চাষাবাদ স্থাপনা নির্মাণে বিধিনিষেধ অমান্য করে কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রতিপক্ষ,এমন অভিযোগ করেছেন ভূ্ক্তভোগী হিন্দু পরিবার।

উপজেলার স্থানীয় মৃত বিদ্যানন্দ দাশের নাতির পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখল করে এ নির্মাণ কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরার কুড়ি ও বোরোধানের ফসলি জমি জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছে একই গ্রামের জহর লাল দাস,উপেন্দ্র দাস,আজির উদ্দিন,আতাব উদ্দিন,নজরুল ইসলাম,মাখমদ আলী,মুজিব উদ্দিন, গৌর চন্দ্র চন্দএর নেতৃত্বে প্রায়ই ৩০থেকে ৩২ জনের একটি পক্ষ।

 

ভোগদখল কৃত জমি নিয়ে প্রতিবেশি জহর লালসহ ৩২ জনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলমান। যা বিচারাধীন রয়েছে। এই অবস্থায় মামলাকৃত জমিতে যাহাতে প্রতিপক্ষ জহর লাল,উপেন্দ্র দাস,আজির উদ্দিন,আতাব উদ্দিনরা কোন কার্যক্রম করতে না পারে তার জন্য অমি দাস বাদী হয়ে মামলাকৃত ঐ জমিতে আদালত থেকে ১৪৪ ধারা হুকুম জারী করে। অতঃপর বিজ্ঞ আদালতের ১৪৪ ধারা জারি করা সত্বেও এবং জমি ভোগদখল বিধিনিষেধ থাকলেও তা অমান্য করে প্রতিপক্ষ জহর লাল,উপেন্দ্র দাস,আজির উদ্দিন, আতাব উদ্দিন,নজরুল ইসলাম, মাখমদ আলী,মুজিব উদ্দিন,গৌর চন্দ্র চন্দ এর নেতৃত্বে প্রায় ত্রিশ -বত্রিশ জনের একটি পক্ষ উক্ত জমিতে চাষাবাদসহ কোড়িতে মাছ ধরছে বলে জানা যায়।

 

এ অবস্থায় নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে অন্যকেহ যাহাতে ভোগদখল করে কোনরকম কার্যক্রম করতে না পারে তার জন্য জমির প্রকৃত মালিক বিদ্যানন্দ’র নাতি অমি দাস গোয়াইনঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে আসার পরপরই আবারো প্রতিপক্ষ তাদের কাজ চলমান রাখেন বলে জানান ভুক্ত ভোগিরা। অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, বিবাদীদের সাথে বাদী অমি দাসের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলে আসছে। মামলাটি সিলেট বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত মামলাকৃত জমির উপর বিধিনিষেধ প্রদান করলেও আইন অমান্য করে উক্ত সম্পত্তি জবরদখল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিপক্ষ। এ ছাড়া বিবাদী মামলাকৃত ঐ সম্পত্তি জোরপূর্বক জবর দখল করে জমি চাষাবাদ ও মাছ ধরার কাজ শুরু করেছেন বলে অভিযোগে জানাগেছে। অভিযোগে আরও জানাগেছে, মামলাকৃত জমিতে চাষাবাদসহ মাছ ধরার কাজে বাধা দিলে বিবাদী বাদীপক্ষকে শারিরীক ভাবে নির্যাতন করে এবং অকাথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে জানান অমি দাস।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রতিপক্ষের একজন জানান, অমি দাশের পূর্বপুরুষেরা এই জমি বিক্রি করেছে গ্রামবাসীর কাছে, এখন জমির কাগজ চাইতে গেলে উল্টো মামলা করেন তারা। এই জমিতে আদালতের ১৪৪ ধারা আছে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে, বলেন জমিতে ১৪৪ ধারা আছে কিনা তিনি জানেন না।

 

মামলাকৃত জমিতে জোরপূর্বক চাষাবাদ ও মাছ ধরার কাজ কিভাবে চলছে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম (পিপিএম) জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে একটি অভিযোগ হয়েছে। যা তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ