পল্টনে বিএনপি-আ.লীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ: সাংবাদিকসহ আহত ৫০

প্রকাশিত: ৭:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৩

পল্টনে বিএনপি-আ.লীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ: সাংবাদিকসহ আহত ৫০

সিলেটের চিত্র ডেস্ক: ঢাকা রাজধানীর পল্টন মোড়ে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলছে। পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করছে। অন্যদিকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পরস্পরের উদ্দেশ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছেন।

 

আজ শনিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার পর পুলিশি বাধার মুখে বিএনপির সমাবেশ পণ্ড হয়ে গেলে নেতাকর্মীরা আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার কিছুক্ষণ পর এ সংঘর্ষ শুরু হয়।

 

এর আগে বিএনপির পল্টনের সমাবেশে ধাওয়া দেয় পুলিশ। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সমাবেশের দুইদিকে অবস্থান নেয় পুলিশ। এরপর বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছোড়া হয়। সাউন্ড গ্রেনেডের বিকট আওয়াজ শুনে বিএনপির নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থল থেকে বেরিয়ে যাওয়া শুরু করেন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, বিএনপি নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থল ত্যাগ করছেন। তারা যে যেদিকে পারছেন সেদিকে দৌড় দিচ্ছেন। তবে নেতারা তখনো স্টেজে অবস্থান করছিলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলামসহ সিনিয়র নেতাদের পুলিশি হামলার মুখেও স্টেজে বসে থাকতে দেখা গেছে।

 

অবশ্য কিছু সময় পর কেন্দ্রীয় নেতারা সবাই স্টেজ থেকে নেমে যান এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নেন।

 

সরকারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে শুরু হয় বিএনপির সমাবেশ। কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। তার আগে বেলা ১১টা থেকে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে মহাসমাবেশ মঞ্চে চলে গান-বাজনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 

সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট-ছোট মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে সমাবেশ স্থলে জড়ো হন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বেলা ১১টার আগেই নয়াপল্টন, কাকরাইল, শান্তিনগর, বিজয় নগর ও ফকিরাপুল এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীতে লোকারণ্য হয়ে যায়।

 

এদিকে, এঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি মিডিয়া ফারুক হোসেন দাবি করেছেন- বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা মারধরে পুলিশের অন্তত ৪১ জন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ২২ জন এবং ঢাকা মেডিক্যালে ১৯ জনকে নেয়া হয়েছে।

 

রাজধানীর কাকরাইল মোড়, বিজয়নগর ও পল্টন এলাকায় ত্রিমুখী সংঘর্ষ আর হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৫০ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ জন সাংবাদিক, ১৯ জন পুলিশ ও বাকি বিএনপির নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। এখনও একে একে আহতকে হাসপাতালে আনা হচ্ছে।

 

শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যালে ৫০ জন আহতকে নেয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে পুলিশের এক সদস্যের অবস্থা গুরুতর। তার মাথা থেতলে গেছে। অন্যরা সাংবাদিক ও বিএনপির নেতাকর্মী।

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি মিডিয়া ফারুক হোসেন দাবি করেছেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা মারধরে পুলিশের অন্তত ৪১ জন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ২২ জন এবং ঢাকা মেডিক্যালে ১৯ জনকে নেয়া হয়েছে।

 

জানা গেছে, নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ চলাকালে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নাইটিংগেল মোড় থেকে টিয়ার শেল ছুড়তে শুরু করে। এ সময় কাকরাইল, বিজয়নগর ও সংশ্লিষ্ট এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

 

এ সময় সেখানে অবস্থান নিয়ে খবর সংগ্রহ করার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা সাংবাদিক রাফসান জানির ওপর হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি সেগুনবাগিচার দিকে দৌড় দিলে হামলাকারীরা তার পিছু নিয়ে ব্যাপক মারধর করে। এক পর্যায়ে রাফসান রাস্তায় পড়ে যান। এসময় তার মাথা ও সারা শরীরে বেদমভাবে আঘাত করা হয়।

 

পরে অন্য সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ