বিশ্বনাথে রবিউল হত্যাকান্ড : ১৪ মাসেও অধরা আসামীরা, নিয়ামত উল্লাহর খুঁটির জোর কোথায়?

প্রকাশিত: ৭:৪২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২১

বিশ্বনাথে রবিউল হত্যাকান্ড : ১৪ মাসেও অধরা আসামীরা, নিয়ামত উল্লাহর খুঁটির জোর কোথায়?
মোঃ রায়হান হোসেন : বিশ্বনাথের বহুল আলোচিত লতিফিয়া ইরশাদিয়া  দাখিল মাদ্রাসার ৩য় শ্রেণীর ছাত্র শিশু রবিউল হত্যায় জড়িত নিয়ামত উল্লাহ, হাসান ও ফয়জুল প্রকাশ ছয়দুলকে গ্রেফতারের কথা বার বার বলার পরও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ গ্রেফতার করেনি।
নিয়ামত উল্লাহসহ অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে সোমবার (১৫ নভেম্বর) সিলেট রেঞ্জের ডি.আই.জি, সিলেট জেলা প্রশাসক ও সিলেট জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ প্রদান করেছেন রবিউল হত্যা মামলার বাদী (নিহত রবিউলের পিতা) মোঃ আকবর আলী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আশপাশ গ্রামের অসংখ্য মানুষ।
দাখিলকৃত অভিযোগে প্রায় দুইশত মানুষের স্বাক্ষর, মোবাইল নং ও গ্রামের নাম উল্লেখ করে এলাকাবাসীর পক্ষে নিহতের পিতা বলেন- প্রায় ১৪ মাস পূর্বে বিশ্বনাথ উপজেলার করপাড়া গ্রামের সাদিকুর রহমান প্রকাশ সাদিকুল, নিয়ামত উল্লাহ, হাসান, ফয়জুল প্রকাশ ছয়দুলসহ এজাহারে উল্লেখিত অন্যান্য আসামীরা মিলে নির্মমভাবে আমার শিশু পুত্র রবিউল কে হত্যা করে লাশ গুম করে, পরে রাতের আধাঁরে যেকোন সময় বাল্লা ব্রীজ সংলগ্ন একটি ডোবার পানিতে ভাসিয়ে দেয়।
১৩ অক্টোবর ২০২০ইং ভোর ৬ ঘটিকার সময় লোকমুখে শুনে আমি এবং আমার গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে রবিউলের লাশ শনাক্ত করি। পরে পুলিশ এসে ময়না তদন্তের জন্য লাশ সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এই ব্যাপারে আমি বাদি হয়ে সাদিকুর রহমানকে প্রধান আসামী করে এবং আরো দুই জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামী করে বিশ্বনাথ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করি, যাহার নং- ০৯, তাং- ১৩/১০/২০২০ইং।
ঐদিনই পুলিশ এজাহারের ০৩ নং আসামী মাজেদা বেগমকে গ্রেফতার করে।
ধৃত মাজেদা বেগম পুলিশের কাছে এবং বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি করিয়া জানান যে “ঘটনার দিন সন্ধ্যার সময় গ্রামের মসজিদের মাইকে রবিউলকে পাওয়া যাইতেছে না বলিয়া সে ঘোষণা শুনিতে পায়। ঐদিন দুপুরে রবিউলকে রাস্তার পাশে গরু বাধতে দেখে, কিছু দূরে সাদিকুর দাড়িয়ে ছিল। ঐদিন তাহার স্বামী আব্দুল কাদির সবজি বিক্রি করিয়া রাত ৮.০০/৯.০০ ঘটিকার দিকে বাড়ীতে আসার পর আসামী সাদিকুর রহমান তাহাকে ফোন করে। পরদিন ভোরবেলা সাদিকুর আবার আব্দুল কাদিরকে ফোন করে সড়কের পাশে রবিউল এর লাশ পাওয়া গেছে বলিয়া জানায় এবং তাহাকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বলে”।
এর থেকে প্রমাণ হয় যে- প্রধান আসামী সাদিকুরসহ অন্যান্যরা রবিউল হত্যার সাথে জড়িত ছিল। রবিউল হত্যার পর উত্তপ্ত বিশ্বনাথবাসী এই নির্মম শিশু হত্যার বিচারের দাবিতে এবং আসামীদের গ্রেফতারের জন্য একাধিকবার বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে মানববন্ধন করেন।
এছাড়াও দুঃখজনক হলেও সত্যি যে- উক্ত হত্যা মামলার বাদি মোঃ আকবর আলী বার বার বিশ্বনাথ থানা পুলিশকে সন্দেহজনক আসামীদের গ্রেফতারের কথা বলার পরওদীর্ঘ ১৪ মাসেও পুলিশ আসামী গ্রেফতার করতে পারেনি।
উল্লেখ্য যে- আলোচিত এই হত্যা মামলার প্রধান আসামী সাদিকুর রহমান প্রকাশ সাদিকুল গত ৭ই নভেম্বর ২০২১ ইং আদালতে আত্মসর্মপন করে জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
উক্ত মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশ্বনাথ থানার এসআই অলক দাসের সাথে মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদকের আলাপকালে তিনি জানান যে- আমরা ০১ নং আসামীর ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছি আদালত শুনানির তারিখ দিলে আমরা শুনানিতে অংশগ্রহণ করে রিমান্ড মঞ্জুর করিয়ে আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রবিউল হত্যার ব্যাপারে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো।
এমতাবস্থায় পুত্র হারানোর শোকে কাতর আকবর আলী ন্যায় বিচার পাওয়ার স্বার্থে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য মানুষের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে ডি.আই.জি, জেলা
প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ