ভারতে চলে যাওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন এক কিশোর দেশে ফিরলেন

প্রকাশিত: ৮:২৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২৩

ভারতে চলে যাওয়া মানসিক  ভারসাম্যহীন এক কিশোর দেশে ফিরলেন

সাইদুল ইসলামঃ ৩০ নভেম্বর, ২০২৩: মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় হারিয়ে যাওয়া এক বাংলাদেশি কিশোর লিল চন্দ শিল ( ১৭) ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি থেকে বাংলাদেশের তামাবিল সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে আজ বৃহষ্পতিবার দেশে ফিরেছেন। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশান প্রোগ্রাম, ভারতের ইমপালস এনজিও নেটওয়ার্ক ও গৌহাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে তাকে ফেরানো হয়।

ছেলেকে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন লিল চন্দের বাবা সিপন চন্দ। পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে লিল চন্দকে জরুরী সহায়তা হিসেবে খাবার, জরুরী কাউন্সেলিং সেবা ও অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সময় তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশ চেকপোস্টের ইনচার্জ রনু মিয়া, ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিলেটের সমন্বয়ক শুভাশীষ দেবনাথ ও ইমপালস এনজিও নেটওয়ার্কের কর্মকর্তা জোনাথান ও নিউ শিলং বয়েজ অবজারভেশন হোমের কর্মকর্তা জোসেফাইন সুমার উপস্থিথ ছিলেন।

লিল চন্দের বাবা সিপন চন্দ জানান, “আমার ছেলে গত দুই তিন বছর ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ, তাকে পায়ে শিকল দিয়ে বেধে রাখতে হয়। না হয় সে পালিয়ে যায়। গত জুলাই মাসে পায়ের শিকল খুলে সে পালিয়ে যায়। অনেক খোজাখুজি করেও তাকে পাওয়া যায় নি। ১৭-১৮ দিন পর একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে বলে আমার ছেলে ভারতের মেঘালয়ে আছে।”

পরিবার ও ভারত সূত্রে জানা গেছে, জাফলং জিরো পয়েন্ট দিয়ে ভারতের আসামে উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল শিল। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তিনি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক হন। কিন্তু বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় লিলকে আদালতের নির্দেশে নিউ শিলং বয়েজ অবজারভেশন হোমে আটক রাখা হয়। পরে ভারতের বেসরকারি সংস্থা ইমপালস এনজিও নেটওয়ার্ক ও ব্র্যাক তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করে।
নিউ শিলং বয়েজ অবজারভেশন হোমের কর্মকর্তা জোসেফাইন সুমার জানান, লিল চন্দ শিল মানসিকভাবে সুস্থ নন। তিনি আমাদের কেন্দ্র থেকেও একবার পালিয়ে গিয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশে আমরা তাকে বাংলাদেশে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলো।

সিপন চন্দ জানান, তিনি পেশায় নাপিত। ছেলে হারিয়ে যাওয়ার পর গত তিন চার মাস কাচিতে হাত দিতে পারছিলেন না। বাসায় রান্না হয় নি ঠিক মতো। উচ্চ রক্তচাপে ভোগা লিলের মা সবসময় ছেলের শোকে কাতর। ছেলেকে পেয়ে এখন তারা খুশি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ