ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত শিশু ফিরে গেল পরিবারের কাছে

প্রকাশিত: ১১:১৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২৩

ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত শিশু ফিরে গেল পরিবারের কাছে

ভৈরব সংবাদদাতা: কিশোরগঞ্জ ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত শিশু রবিউল (১০) এর পরিবারের খোঁজ মিলেছে। রবিউল ঢাকা মিরপুর ১ নাম্বার শাহআলী থানা চিড়িয়াখানা ২৩ নং রোডের নিউ সি ব্লক ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মিলন মিয়ার ছেলে।

 

আজ ২৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প.প. কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জানান, সকাল ১১ টায় ভৈরব থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহ আলম মোল্লা, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার রিফফাত জাহান ত্রপা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কিশোর কুমার ধর এর সামনে রবিউলকে তার পিতা মিলন মিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিখোঁজ রবিউলের বাবা মিলন মিয়া জানান, মিরপুর ১ শাহআলী থানা চিড়িয়াখানা রোড এলাকায় তিন ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন। কিছুদিন আগে রবিউলের মা মৃত্যু বরণ করেছেন। রবিউলকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়েছিল। সে লেখা পড়া করতে চাই না। তারা তিন ভাই। বড় ছেলে মিরা (১৩) ও ছোট ছেলে তামিম। রবিউল মেঝো। তিনি মিরপুর ৮ নাম্বারে একটি কমিউনিটি সেন্টারে কাজ করেন।

 

তিনি বলেন, ২২ অক্টোবর রবিবার দুপুরে আমি রবিউলকে গোসল করানোর পর সে বাড়ির পাশে খেলতে আসে। তিন বন্ধুর সাথে খেলতে বের হয়ে হারিয়ে যায়। পরে বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পারি মেট্রো রেলে সে বিমান বন্দর চলে আসে। ছেলে হারানোর বিষয়টি ২২ অক্টোবর রাতে মিরপুর থানায় জিডি করতে গেলে কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার জানান ১দিন অপেক্ষায় থাকেন দেখেন ছেলে ফিরে আসে কি না। ২৫ অক্টোবর থানার ঐ এসআই জানান ভৈরবে আমার ছেলেকে পাওয়া গেছে। পরে তার মাধ্যমে যোগাযোগ করে রাত ১১টায় ভৈরবে আসি।

 

এ বিষয়ে দুর্ঘটনার পর তিনদিন থেকে রক্ষণাবেক্ষনে রাখা নার্স জান্নাত বেগম বলেন, রক্তাক্ত অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছিল রবিউলকে। চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। ওই সময় তার সাথে কাউকে খোঁজে পাওয়া যায়নি। পরদিন সুস্থ্য হলে তারা কাছে জানতে পারি সে ঢাকার বাসিন্দা। কিন্তু সঠিক ভাবে কিছু বলতে পারেনি। তবে রবিউল বলেছে তার দাদা-দাদী তাকে মারধোর করে তাই সে বাসা থেকে পালিয়ে এসেছে।

 

উল্লেখ্য, ২৩ অক্টোবর সোমবার বিকালে ভৈরবের জগন্নাথপুর রেলক্রসিং এলাকায় ঢাকাগামী আন্তনগর এগারসিন্দুর (গোধুলী) ট্রেনের সঙ্গে বিপরিত দিক থেকে আসা কন্টেইনারবাহী একটি ট্রেনের সংঘর্ষ ১৮ জন নিহত ও শতাধিক আহত হন। দুর্ঘটনায় এগারসিন্দুর ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ