ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ পরিবারে কাছে হস্তান্তর, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

প্রকাশিত: ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২৩

ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ পরিবারে কাছে হস্তান্তর, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

ভৈরব সংবাদদাতা: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনার ১২ ঘণ্টা পর ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রেলপথে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভৈরব রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ মিয়া।

 

তিনি জানান, ঢাকা ও আখাউড়া থেকে দুটি উদ্ধারকারি ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ৮টার দিকে প্রথমে দুর্ঘটনা কবলিত মালবাহী ট্রেনটি ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সেই লাইনটি মেরামত শেষে রাত ১০টা ৪৫ মি. দিকে ঢাকা থেকে সিলেটগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনটির মাধ্যমে সিঙ্গেল লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

 

পরে দুর্ঘটনাজনিত কারণে বিভিন্ন স্টেশনে আটকে থাকা ঢাকা-নোয়াখালি, উপকূল-সিলেট-ঢাকা জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোর চলাচল শুরু হয়।

 

ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটির দুটি বগি রেললাইন থেকে সরিয়ে নিয়ে রেলপথ মেরামতের কাজ শুরু করে কর্মীরা। সকাল ৭টা ১২ মিনিটে ঢাকা থেকে সিলেটগামী উপবন ও ৭টা ১৯ মি.দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেঁড়ে আসা ঢাকা মেইল ট্রেনটি ঢাকার দিকে যায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-নোয়াখালি ও ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রেলপথে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

এদিকে দুর্ঘটনার পর হতাহতের তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। গতকাল রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র ১৭ জন নিহত এবং অর্ধশত আহতের খবর নিশ্চিত করে। যদি ও রাতেই মরদেহ হস্তান্তরের সময় এই বিভ্রান্তি দূর হয়।

 

এছাড়া ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বুলবুল আহমেদ জানান,কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু কালাম আজাদ এর উপস্থিতিতে জেলা পিবিআই মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় সনাক্ত হওয়ার পর। রাতে ১৬টি মরদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। লাশ দাফন কাফনের জন্য প্রত্যেককে ২৫হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করেন। হস্তান্তরের সময় জানা যায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ১৬ আর আহত ৭৫ জন।

 

আহতদের মাঝে ২২ জনকে ঢাকায়, ৪০ জনকে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ১২ জনকে অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে এখানে রবিউল (১২) নামে এক অজ্ঞাত পরিচয় শিশুসহ তিনজন চিকিৎসাধীন আছেন।

 

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৭০ জনকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। এর মধ্যে ২২ জনকে ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যান্য হাসপাতালে নেওয়া হয় আরও অন্তত ৩০ জনকে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এক পরিবারের চারজন রয়েছেন।

 

মালবাহি ট্রেনটি সিগন্যাল অমান্য করায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে এই ট্রেনটির চালক, সহকারি চালক ও পরিচালক (গার্ড) কে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ