সিলেট বিভাগে প্রার্থীরা কেনইবা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন? : কেনইবা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছেন?

প্রকাশিত: ১:২৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২৪

সিলেট বিভাগে প্রার্থীরা কেনইবা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন? : কেনইবা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছেন?

মোঃ রায়হান হোসেন:
বিএনপিবিহীন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে টানা কয়েকদিন ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েও নির্বাচন থেকে প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানোর যেন হিড়িক পড়েছে। ভোটের মাত্র ২ দিন আগে সিলেট বিভাগের একে একে ৫ প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। জাতীয়ভাবে এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত দীর্ঘ হচ্ছে। গত ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশের অধিক জাতীয়পার্টির প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। কেনইবা তারা সরে দাঁড়াচ্ছেন আর কেনইবা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছেন? এমন প্রশ্নও উঁকি দিচ্ছে।

 

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এমন প্রার্থীদের অভিযোগ, ভোটে সুষ্ঠু পরিবেশের অভাব, ক্ষমতাসীনদের পেশিশক্তির প্রভাব, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীও প্রচারণায়, বিভিন্ন চাপ, হুমকি, দলের জাতীয় নেতাদের সহযোগিতা না পাওয়া,  টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার ঘটনা ঘটছে ইত্যাদি। এদিকে সিলেট বিভাগে বিএনপি নেতারাও জন সাধারণের মাঝে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে লিফলেট বিলি করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

 

নির্বাচনকে পাতানো ফাঁদ উল্লেখ করে শেষ মুহূর্তে এসে ভোট বর্জনের ঘোষণার কারণ হিসেবে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)- প্রার্থী শামছুল আবেদীন বলেন- ‘‘ভোটের অধিকার রক্ষার্থে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলাম। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয় নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।’’ ‘‘সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে অনেক জনপ্রতিনিধি প্রকাশ্যে কাজ করছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীও প্রচারণায় রয়েছেন। আওয়ামী লীগে প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। কেউই নির্বাচনী আচরণবিধি মানছেন না। এটি একটি পাতানো ফাঁদ। তাই এই ফাঁদ থেকে আমি সরে দাঁড়ালাম।’’

 

হবিগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী গাজী মোহাম্মদ শাহেদ বলেন- ‘‘আওয়ামী লীগ থেকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির মুনিব বাবুকে সমর্থন করায় তাঁর সমর্থনে সরে দাঁড়িয়েছেন।’

 

কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করে সুনামগঞ্জ-১ আসনের জাতীয় পার্টির আবদুল মান্নান তালুকদার বলেন- ‘‘আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি, এটা আসন ভাগাভাগি ও প্রহসনের নির্বাচন।’’

 

হবিগঞ্জ-২ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী শংকর পাল অভিযোগ করে বলেন- ‘‘নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের অভাব রয়েছে। আছে ক্ষমতাসীনদের পেশীশক্তির প্রভাব।’’

 

সিলেট-৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাব্বির আহমদ গত বুধবার (৩ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মর্মে ঘোষণা দেন তিনি। সাব্বির অভিযোগ করে বলেন – নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি সরকার এবং নির্বাচন কমিশন জাতীয় পার্টিকে দিয়েছিলো। কিন্তু আমরা নির্বাচনি মাঠে এমন কোনো পরিবেশ পাচ্ছি না।  তাই নির্বাচন করা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জাতীয় পার্টির কর্মী ও ভোটাররা শঙ্কিত। প্রার্থী হিসেবেও আমি নানাভাবে হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছি।

 

সাব্বির আরো বলেন- গত ৩০ ডিসেম্বর সিলেট সার্কিট হাউসে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে মতমিবিময় কালে আমিসহ সিলেটের অনেক প্রার্থী বিষয়টি তুলে ধরি। কিন্তু সিইসি আবারও একই প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার এবং ইসি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে না পারায় আমি নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

 

অপরদিকে, প্রার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচনের কর্মকর্তারা বলছেন- যেহেতু প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়ে গেছে। নির্বাচনী বিধিমালায় তারা প্রার্থী হিসেবেই গণ্য হবেন। তাছাড়া প্রার্থীরা লিখিত বা মৌখিকভাবে কোনো অভিযোগও দিচ্ছেন না; তাই প্রার্থীদের এ ধরনের ঘোষণা ব্যক্তিগত।

 

তবে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা বলছেন- যারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তাদের দেওয়া বিভিন্ন অভিযোগ ভিত্তিহীন। জনপ্রিয়তা না থাকায় তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে নানান অজুহাত খুঁজছেন ও অভিযোগ দিচ্ছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ