হোটেল-মোটেল ও ফ্ল্যাটে দেহবাণিজ্য : পর্যটন নগরী সিলেট যেন পতিতাপল্লী

প্রকাশিত: ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০২২

হোটেল-মোটেল ও ফ্ল্যাটে দেহবাণিজ্য : পর্যটন নগরী সিলেট যেন পতিতাপল্লী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৩৬০ আউলিয়ার পুন্যভুমি, দুটি পাতা একটি কুড়ির দেশ সিলেট, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেট যুগ যুগ ধরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করে আসছে। এই পর্যটন নগরী এখন পতিতা পল্লীতে পরিনত হতে চলেছে। নগরীর আবাসিক হোটেল-মোটেল ও ফ্ল্যাট বাড়িতে বেপরোয়া হারে বেড়েছে পতিতাবৃত্তি।

গত ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন মো. নিশারুল আরিফ। তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের পর সিলেটকে পতিতামূক্ত নগরীর গড়ার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পর নগরীর সর্বত্র শুরু হয় সাড়াষি অভিযান। ফলে ঘা-ঢাকা দেয় পতিতার দালালরা। কিন্তু কিছু দিনের ব্যবধানের নগরীতে ভেঙের ছাতার মতো আবারো গড়ে উঠে মিনি পতিতালয়।

নগরীর দক্ষিণ সুরমা প্রায় ১০টিরও বেশি আবাসিক হোটেলে চলছে রমরমা পতিতাবৃত্তি ও নারী দেহের বাণিজ্য। কদমতলী পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই আউয়াল মিয়ার ‘যাত্রীসেবা আবাসিক হোটেল’ রয়েছে। যে খানে সকল ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। রয়েছে ইকবাল ও বিলালের ‘হোটেল তিতাস’। এসব মিনি পতিতালয়ের শেল্টারদাতা গিয়াস মালিক সহ তিনজনই মানবপ্রাচার মামলার আসামি।

‘নিউ বিরতী আবাসিক হোটেল’ এর পরিচালক রিপন দীর্ঘদিন থেকে ওই হোটেলে চালিয়ে যাচ্ছে দেহ ব্যবসা । এছাড়াও ‘হোটেল মার্টিন এবং হোটেল কাশবন, দুটিতে কাজের বুয়ার নামে চালিয়ে যাচ্ছে দেহ ব্যবসা। প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের ছায়া আছে এই হোটেল মালিক এর উপর। হোটেল প্রবাস, হোটেল শাপলা সহ আরো ১০ টিরও বেশি হোটেল রয়েছে এই অসামামিক ব্যবসায় জড়িত। হোটেল শাপলার মালিক জহির কদমতলী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছে সকল ধরনের অপরাধ। বিশেষ করে হোটেল শাপলায় মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের আস্তানা রয়েছে। পুলিশ একাধিকবার এই হোটেল থেকে ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করেছে।

নগরীর উত্তর সুরমার ব্যস্ততম কালীঘাটে রয়েছে রানা মিয়ার ‘হোটেল ভাই ভাই, হোটেল সোনালী, হোটেল নিরালা, বন্দরবাজের করিমউল্লার পাশের রয়েছে হোটেল মহানগর, জিন্দাবাজারস্থ হোটেল সবুজ বিপনী, হোটেল রাজমণি, মেডিকেল রোডে হোটেল রজণিগন্ধা, হোটেল পংকি, হোটেল হলি ভিউ, হোটেল আল শফিক, হোটেল শিরিন, চৌধুরী হোটেল, তালতলায় হোটেল গুলশান, হোটেল বিলাশ, হোটেল রহমানিয়া, হোটেল সুরমা, হোটেল মেঘনা সহ আরো অনেক গুলো আবাসিক রয়েছে যে গুলো হচ্ছে বেপরোয়া পতিতাবৃত্তি।

এসব হোটেলে শুধু পতিতা বাণিজ্য নয়, রেস্টরুম ভাড়ায় বয়ফ্রেন্ড- গার্লফ্রেন্ড এবং প্রেমিক-প্রেমকিাদের দৈহিক মিলনের ব্যবস্থা রয়েছে। কোপন কেন হেটেলে দালালরা বিভিন্ন স্থান থেকে ফুসলিয়ে আনা ভিকটিমদেরও আটকিয়ে রেখে জোর পূর্বক ভাড়ায় দেহব্যবসায় জড়িত করা হয়ে থাকে। স্থানীয় ফাড়ি পুলিশের সাথে দেহব্যবসায়ী হেটেল কর্তৃপক্ষের দহরম মহরম থাকায় এগুলোতে অভিযান হয় না। আর উর্ধতন কর্তৃপক্ষ অভিযান চলালে স্থানীয় পুলিশের মানি সোর্সের মাধ্যমে আগাম সংবাদ পেয়ে যায় দেহব্যবসায়ীরা। ফলে অনেক ক্ষেত্রে অভিযান ব্যর্থ হয়।

এব্যপারে জানতে এসএমপি মিডিয়ার উপ-কমিশনার আশরাফুল্রাহ তাহেরের সরকারি সেলফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ